আইপিএলে টানা দ্বিতীয় শিরোপা মুম্বাইয়ের রোহিতের ব্যাটিং ঝড়ে

খেলাধুলা

অনলাইন ডেস্কঃ গত সংস্করণের ফাইনালের তুলনায় এবারের ফাইনালে রান উঠেছে বেশি। কিন্তু ফাইনালটা ফাইনালের মতো হলো কি? গতবার রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা ছিল ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত। এবার ম্যাচ শেষ বল পর্যন্ত গড়ায়নি।

তবে জয়ী দলের নামও পাল্টায়নি। কে আবার, চ্যাম্পিয়ন সেই মুম্বাই ইন্ডিয়ানসই! এ নিয়ে টানা দুবার আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হলো রোহিত শর্মার দল।

ঠিক ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ না বলা গেলেও আইপিএল শিরোপাকে একরকম নিজস্ব সম্পত্তিই বানিয়ে ফেলেছে মুম্বাই। দুবাইয়ে এবারের ফাইনালে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো আইপিএল শিরোপা জিতল রোহিত শর্মার দল। আর দিল্লির জন্য আইপিএল শিরোপা হয়ে রইল দূর অস্ত—এবার প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে শিরোপার সুবাস পেয়েছিল শ্রেয়াস আইয়ারের দল।

কিন্তু ওই সুবাস পর্যন্তই, রোহিত শর্মার ৫১ বলে ৬৮ রানের ইনিংসের কাছে পর্যুদস্ত হয়ে শিরোপাটা শেষ পর্যন্ত শুধু দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো দিল্লিকে। অন্যদিকে অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে মুম্বাইকে আবারও সাফল্য এনে দিলেন রোহিত। ৪ ছক্কা ও ৫ চারে ইনিংসটি সাজান তিনি।

আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৫৬ রান তুলেছিল দিল্লি। তাড়া করতে নেমে মুম্বাই যেন কোনো চাপই টের পায়নি! কুইন্টন ডি কক (১২ বলে ২০) পঞ্চম ওভারে আউট হওয়ার আগে রোহিতের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে তুলেছেন ৪৫ রান। এমন ভালো শুরুর ভিত থেকে ইনিংস বড় করেছেন রোহিত। সূর্যকুমার যাদবের (২০ বলে ১৯) সঙ্গে ৪৫ রান এবং তৃতীয় উইকেটে ইশান কিষানের সঙ্গে গড়েন আরও ৪৭ রানের জুটি।

১৬.২ ওভারে রোহিত যখন পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে ললিত যাদবের দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হলেন, মুম্বাই তখন জয়ের সুবাস পাচ্ছে। ২২ বলে দরকার ২০ রান। হাতে ৮ উইকেট। এখান থেকে কাইরান পোলার্ড ওই ওভারেই দুটি চার মেরে মুম্বাইয়ের জয়কে স্রেফ সময়ের ব্যাপারে পরিণত করেন।

পরের ওভারে পোলার্ডের স্টাম্পে বল টেনে এনে আউট হওয়াকে অনেকে ‘বিলাসিতা’ ভাবতে পারেন। কারণ, ঠান্ডা মাথায় খেললেই পোলার্ড ম্যাচটা শেষ করে আসতে পারতেন। হার্দিক পাণ্ডিয়া ও ইশান কিষান মিলে সেই কাজটাই করছিলেন।

তবু জয়ের জন্য ১ রানের দূরত্বে থাকতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হার্দিক। কিন্তু ইশান ১৯ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থেকে ১৮.৪ ওভারের মধ্যে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। দিল্লির হয়ে ১টি করে উইকেট কাগিসো রাবাদা, আনরিখ নর্তিয়ে ও মার্কাস স্টয়নিসের।

এর আগে টস জিতে ফাইনালের প্রথম হাসিটা হেসেছিলেন দিল্লি অধিনায়ক শ্রেয়াস। কিন্তু ব্যাটিং শুরু হতেই মুছে যায় হাসি। ট্রেন্ট বোল্টের প্রথম বলেই স্টয়নিস আউট! গত মৌসুমেও দিল্লিতে খেলা কিউই পেসার বোল্ট নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরিয়ে দেন অজিঙ্কা রাহানেকে। পাঁচ বল পর অফ স্পিনার জয়ন্ত যাদব যখন মৌসুমে দিল্লির সেরা ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ানকে বোল্ড করে দিলেন, ২২ রানে ৩ উইকেট নেই দিল্লির।

আইয়ার দায়িত্ব তুলে নেন নিজের কাঁধে। প্রথমে ঋষভ পন্তকে নিয়ে ১১.৩ ওভারে গড়লেন ৯৬ রানের জুটি। ৩৮ বলে ৫৬ রান করে পন্ত বিদায় নিলেও আইয়ার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৬৫ রানে। দিল্লি অধিনায়কের ৫০ বলের ইনিংসটি সাজানো ৬ চার ও ২ ছক্কায়। মুম্বাইয়ের হয়ে বোল্ট ৩০ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ২৯ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন নাথান কোল্টার-নাইল।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *