থমকে থাকা ১৪টি দিন ব্যস্ত অপূর্বর

বিনোদন

অনলাইন ডেস্কঃ ‘বুঝলাম না, ২০২০ সালে ভোগান্তি কেন যেন শেষই হচ্ছে না আমার’, একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বললেন অপূর্ব। শুক্রবার (গতকাল) আবার নমুনা পরীক্ষায় পাঠাতে হবে। তাঁর আশা, ফল নেগেটিভ আসবে। করোনার ভোগান্তি শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছেন অপূর্ব। সঙ্গে এনেছেন অন্য রকম সব অভিজ্ঞতা।

গত বুধবার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। সুস্থ, তবে দুর্বলতা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। করোনাভাইরাসের অসুখ কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে ৩ নভেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নেওয়া হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। ৯ দিন পর বাসায় ফিরে আক্ষেপ করছেন অপূর্ব, ধন্যবাদ জানিয়ে আসা হয়নি তাঁদের। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা তাঁকে সুস্থ করে তুলতে অনেক পরিশ্রম করেছেন! ‘শরীরটা এত দুর্বল লাগছিল যে ফেরার সময় তাঁদের একটু ভালোবাসা জানানো হয়নি। ইচ্ছে ছিল “লটস অব লাভ ফর ইউ” লিখে হাসপাতালের সবাইকে একটা অটোগ্রাফ দিয়ে আসি’, আক্ষেপ নিয়ে বলেন অপূর্ব।

হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরার পর প্রথম আলোর পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করা হয়। শারীরিক অবস্থার খবর নেওয়ার পর জানতে চাওয়া হয় হাসপাতালের দিনগুলো কেমন ছিল? তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুই জানি না। নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাসপাতালের ধবধবে বিছানায়। কীভাবে যে রাত-দিন কেটেছে জানি না। এখন অনেকটা সুস্থ। বাসায় ফেরার পর ভালো লাগছে। মাঝে ব্যাক পেইন নিয়ে খুব সমস্যা গেছে। এ জন্য শুটিংও বন্ধ রাখতে হয়েছিল। কিছুদিন না যেতেই আবার করোনায় আক্রান্ত হলাম।’

অপূর্ব অসুস্থ হন ৩১ অক্টোবর। করোনা পরীক্ষার ফল হাতে পান ৩ নভেম্বর রাতে। সেই গল্প বলতে গিয়ে এ অভিনেতা জানালেন, পরপর দুই দিন আউটডোরে কাজ করেছিলেন। সাগর জাহানের ‘মেঘ দেখাব বলে’ নাটকে শুটিংয়ের টুকিটাকি কাজ। প্রচুর রোদ ছিল, গরমও ছিল সেই দুদিন। শেষ দিন, ৩১ অক্টোবর সন্ধ্যায় হঠাৎ এল জ্বর। ১০২ ডিগ্রি থেকে সেটা বাড়তে থাকে। বাসায় ফিরে উত্তাপ মেপে দেখেন ১০৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি…। পরক্ষণে নিজেকে আবিষ্কার করেছিলেন হাসপাতালে। জ্ঞান হারিয়েছিলেন তিনি। অপূর্ব বলেন, ‘শিহাব শাহিনের “যদি… কিন্তু… তবুও…” সিনেমার এক দিনের শুটিং করে একটু বিরতি পেয়েছিলাম। ওই সময় সাগর জাহানের নাটকের কাজে গিয়েছিলাম। পরে নমুনা পরীক্ষা করে জানতে পারলাম করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। সহকর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই আমার। একমুহূর্ত তাঁরা আমাকে একা হতে দেননি। তবে ভক্তদের কাছে আমি সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ, তাঁদের দোয়া আমাকে ফিরিয়ে এনেছে।’

টেলিভিশনের কাজে ভীষণ ব্যস্ত থাকতে হয় অপূর্বকে। তাঁর বিরতি নেওয়া মানে বেশ কজন পরিচালকের কাজ থমকে যাওয়া। ইতিমধ্যে ১৪ দিন চলে গেছে, হয়তো আরও সপ্তাহ দু-এক বিশ্রামে থাকতে হতে পারে অপূর্বকে। এ অবস্থায় কী হবে তাঁর পরিচালকদের? এমন প্রশ্নে অপূর্ব বলেন, ‘সেদিক থেকে বেঁচে গেছি এবার। হাতে সেই অর্থে কোনো কাজ ছিল না। কারণ, নাটকের সব কাজ শেষ করেই সিনেমার শুটিং শুরু করেছিলাম। হঠাৎ সিনেমার শুটিংও বাতিল হয়। তবে ‘প্রশ্নোত্তর’ ও ‘ভাগ্যক্রমে’ নামে দুটি টেলিছবির এক দিন করে কাজ বাকি আছে। নাটক দুটি ভালোবাসা দিবসের। এক মাস পর শেষ করলেও সমস্যা হবে না।’

পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে বেশি দিন লাগবে না, অপূর্বর আশা সে রকমই। খাওয়াদাওয়া আর ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে পারলে শিগগিরই ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে পারবেন তিনি। সুস্থ হয়ে সিনেমা নাকি নাটক, কোনটির শুটিং আগে শুরু করবেন? এ প্রশ্নে অপূর্ব বললেন, ‘সিনেমার। এরই মধ্যে নতুন শিডিউল হয়ে যাবে। সেটা শেষ করে আবার নাটকে।’

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *